মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিধ্বস্ত রাষ্ট্র ইরাকে সশস্ত্র জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) হামলায় ১০৪ ইয়াজিদিকে হত্যা করা হয়। ২০১৪ সালে ঘটা সেই ঘটনার পর কেটে গেছে বহু বছর। অবশেষে তাদের দেহাবশেষ ফিরিয়ে এনে দাফন করেছে দেশটির ইয়াজিদি সম্প্রদায়।
ব্রিটিশ মিডিয়া বিবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহত ইয়াজিদিদের দেহাবশেষ শনাক্ত করে গণকবর থেকে তুলে আনা হয়েছে। শনিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) নিনেভা প্রদেশের সিঞ্জার পর্বতের নিকটবর্তী কোছো গ্রামে তাদের দাফন করা হয়।
ইরাকের উত্তরাঞ্চলে ইয়াজিদিদের এলাকাগুলোতে হামলা চালিয়ে কয়েক হাজার পুরুষকে হত্যা করা হয়েছিল। এর পাশাপাশি নারী ও শিশুদের দাসে পরিণত করা হয়, এমনকি ধর্ষণ করা হয় অনেককে।
জাতিসংঘ বলছে, ওই সম্প্রদায়ের ওপর আইএস গণহত্যা চালিয়েছে। ইয়াজিদি অর্গানাইজেশন ফর ডকুমেন্টেশনের প্রধান খাইরি আলী ইব্রাহিম জানিয়েছেন, নিহত ওই ১০৪ জনের সবাই পুরুষ। ২০১৪ সালের আগস্টে তারা সবাই আইএসের হাতে নিহত হন।
কোছো শহরে আনার আগে বৃহস্পতিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বাগদাদে অজ্ঞাত সৈনিকদের স্মৃতিস্তম্ভে তাদের স্মরণ করে একটি শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রত্যেকটি কফিন নিহত ব্যক্তিদের ছবি দিয়ে সাজান ছিল।
ইয়াজিদি মানবাধিকার কর্মী মির্জা দিনায়ি বলেন, নিহতদের দেহাবশেষের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের প্রথম পদক্ষেপ এটি আর অন্যান্য ভুক্তভোগীদের জন্যও এটি একটি অন্তর্বর্তী বিচারের পদক্ষেপ হবে। নারী, শিশুসহ যারা ওই গণহত্যা থেকে বেঁচে গিয়েছিল তাদের ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ইয়াজিদিরা জোরাস্ট্রিয়নিজম ও প্রাচীন মেসোপটেমিয়ানের সমন্বয়ে তৈরি একটি ধর্মের অনুসারী। এই সম্প্রদায়কে ধর্মবিরোধী হিসেবে বিবেচনা করে থাকে আইএস।
২০১৪ সালের ৩ আগস্ট আইএস হামলা চালানোর আগে ইরাকে আনুমানিক সাড়ে পাঁচ লাখ ইয়াজিদি বসবাস করত। সে সময় প্রায় তিন লাখ ৬০ হাজার ইয়াজিদি পালিয়ে অন্য কোথাও আশ্রয় নিয়েছে।